প্রকাশিত: 24 December, 2023
সর্বশেষ আপডেট : 24 December, 2023

কৃষিতে মাসে লাখ টাকা আয় করেন হাতিয়ার আরিফ

নিজস্ব প্রতিবেদন : অভাব ঘোচাতে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ১০ ঘন্টা ভেসেছিলেন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ উদ্দিন। সাথে ছিলো তার বাবা সিরাজ উদ্দিন ও তার ছোট ভাই। তখন ভেবেছিলেন আর মনে হয় বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সৃষ্টিকর্তার রহমতে শেষমেষ কূলে ফিরতে পেরেছেন তারা। জীবনে ঘাত প্রতিঘাত দেখে বড় হওয়া আরিফ আজ সফল। কৃষিতে মাসে লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

আরিফ উদ্দিন নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মোল্লা গ্রামের আরিফ গোয়ালের বাড়ির সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তার আয় দিয়ে চলে চার ভাই আর বাবা মায়ের সংসার। নিজের গরু, ভেড়া, চাষাবাদের আয় থেকে করেছেন ভাগ্য বদল। পুরো নিঝুমদ্বীপে আরিফ গোয়াল নামেই তাকে চিনে।

জানা গেছে, আরিফ উদ্দিন বছরজুড়ে ১১ একর জমিতে কৃষি কাজ করেন। এবছর ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান করে পেয়েছেন ৫০০ মণ ধান। এছাড়াও তরমুজ করেছেন তিন একর জমিতে, কুমড়া করেছেন এক একর জমিতে, মরিচ এক একর জমিতে এছাড়াও রয়েছে দুইটি মাছের ঘের এবং ৩০ টি মহিষ ও দুধের গরু ৯ টি রয়েছে।

আরিফের ফুফাতো ভাই কামাল উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে আরিফ অনেক পরিশ্রম করেছে। এখন সে সফল আছে। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।
আরিফের বাবা সিরাজ উদ্দিন বলেন, ৩০ বছর আগে আমরা এই নিঝুমদ্বীপ এসেছি। তখন অনেক কষ্ট করেছি। কাঁকড়ার গর্তের পানি খেয়ে জীবন বাচাইছি। এখন আমাদের লবন ও পেয়াজ ছাড়া কোনো কিছুই ক্রয় করা লাগে না। নদীতে নৌকা আছে, গরু আছে, ভেড়া আছে, দধির দোকান আছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভাল আছি।

আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ গোয়াল বলেন, ১০ ঘন্টা নদীতে বাবা আর আমরা দুই ভাই ভেসেছিলাম। সেখান থেকে আল্লাহ উদ্ধার করেছে। তারপর থেকে পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার দিকে আসছি। ওইদিনের কাহিনী মনে পড়লে অনেক কিছু মনে পড়ে। সেদিন যে বাঁচবো কখনো ভাবি নাই। তারপর দিন এনে দিন খেতাম। এখন আমার মাধ্যমে ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরিফ উদ্দিন আরও বলেন, মাসে আমার এক লাখ টাকার মতো থাকে। আমার সাথে চার ভাই আর বাবা-মা আছেন। এই নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে যারা এসেছে তারা গরিব মানুষ ছিল। এখন সবার ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। পর্যটকরা আসে তারাও ভাল সময় কাটায়। একটা সময় পোকামাকড়ের ধান খেয়ে জীবনযাপন করেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিকে তাকিয়েছেন তাই সফল কৃষক হয়েছি।

ধানের ফলন ভাল হয়েছে উল্লেখ করে আরিফ বলেন, আমার আমন ফলন এবার খুব ভাল হয়েছে। ছয় বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ৫০০ মণ। প্রতি বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ৮০-৯০ মণ। আমরা ভাল দাম পাবো। সংসারের জন্য ১০০ মণ রেখে বাকি ধান বিক্রি করে দিবো। আমার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। লাভ হবে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, যারা সংগ্রাম করে সফল হয়েছেন তাদেরকে সবাই মনে রাখবে। আরিফ উদ্দিন তাদের একজন। এছাড়াও যারা সমন্বিত কৃষির মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন তারা সমাজে উদাহরণ হিসেবে থাকবেন। তরুণ প্রজন্মের বা বেকারদের পথ দেখাতে পারছেন। এটা ইতিবাচক দিক। আমরা এটিকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার উপ-পরিচালক মো. শহীদুল হক বলেন, প্রত্যেক সফলতার পেছনে কঠোর পরিশ্রমের গল্প আছে। আরিফ আজ সফল হয়েছে। তার মাধ্যমে পরিবারের পাশাপাশি দেশ উপকৃত হচ্ছে। অর্থনীতির চাকা আর শক্তিশালী হচ্ছে। এমন আরিফদের দেখে সমাজের আরও অনেককে উৎসাহিত হয়ে কৃষিতে এগিয়ে আসছে। কৃষি বিভাগ আরিফকে সকল বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন