
মোহাম্মদ আমান উল্যা, উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল : চাটখিলে ভীমপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রছুল ১ জানুয়ারি ২০২৪ খ্রি. দীর্ঘ ৩৬ বছর ১ মাসের কর্মজীবনের ইতি টানেন। ২ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে নোয়াখালী জেলাধীন চাটখিল পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে ( হোসেন আলী ডাক্তার বাড়ি) জন্ম গ্রহণ করেন।
তিনি ভীমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক। ১৯৮১ সালে এসএসসি, ১৯৮৩ সালে এইচএসসি, ১৯৯১ সালে স্নাতক, ১৯৯৩ সালে বিএড এবং ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। বড়ই সংগ্রামী জীবন ছিল তার। শৈশব থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন এই শিক্ষক। একদিকে কর্মযজ্ঞ, লেখাপড়া অন্যদিকে হাড়ভাংগা পরিশ্রম আর সংসারের গ্লানি টেনেই চলতে হয়েছে।
তিনি ২৭ নভেম্বর ১৯৮৭ ভীমপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে এমপিও ভুক্ত হয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী ৬০ বছর পুর্ণ হওয়ায় ৩৬ বছর ১ মাসের দীর্ঘ কর্ম জীবন সমাপ্ত করেন। শিক্ষকতা জীবনে দায়িত্ব সচেতন, কঠোর পরিশ্রমি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রায় সকল কাজেই তিনি প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ এবং খুবই পারদর্শী। এমন গুণী, নিরলস এবং ঠান্ডা মাথার কাজ প্রেমী মানুষ সমাজে খুব কমই আছে।
পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ সন্তানের জনক। বড় ছেলে এম এম রাইহান (৩১) ইতালি প্রবাসী, বিবাহিত ১টি কন্যা সন্তানের জনক। মেঝো ছেলে মাহমুদুল হাছান এবং ছোট ছেলে রাহাত বিন হাবিব (১৮) ষষ্ঠ সেমিস্টারে ঢাকায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছে। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং সর্বোপরি একজন শিক্ষাবিদ। একজন সজ্জন ব্যক্তি, সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং উনার কর্মজীবন চলাকালীন ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি আমার প্রিয় শিক্ষকদের একজন।
জীবন সায়াহ্নে এসে গত বছর তিনি স্ট্রোক করেন এবং অনেকটা সেরে উঠে কর্ম জীবন চালিয়ে যান। জীবনের বাকি সময়টুকু আমাদের সাথে সু-সম্পর্কের মধ্যদিয়ে যেন কেটে যেতে পারে আল্লাহ সেই তৌফিক দান করুন। মহান আল্লাহতা’লা উনাকে আমৃত্যু সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করুন।
আপনার মতামত লিখুন :