প্রকাশিত: 5 February, 2024
সর্বশেষ আপডেট : 5 February, 2024

নানা সংকটে ব্যাহত নোয়াখালী মহিলা কলেজের পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদন : ৫৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। নোয়াখালীসহ পাশের জেলা ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের প্রায় ছয় হাজার ছাত্রী মহাবিদ্যালয়টিতে পড়ছেন। এ ছাড়া শিক্ষক ও হোস্টেলে শয্যাসহ নানা সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিকের ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবের ছাদ থেকে পলেস্তারার বড় একটি অংশ খসে পড়ে। তবে এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই কক্ষে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম চলাকালে একাধিকবার পলেস্তারা খসে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে শিক্ষকসংকটও। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ ৪৫টি পদ রয়েছে এখানে; যার মধ্যে ১৬টি পদই কয়েক বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে।

জেলার মেয়েদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ১৯৭০ সালে নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি বিজ্ঞান ভবন, একটি একাডেমিক ও একটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে ভবনগুলো জরাজীর্ণ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটিতে বিএ, বিবিএস ও বিএসএস স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইংরেজি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষার কেন্দ্রও হিসেবে ব্যবহার করা হয় প্রতিষ্ঠানটির কক্ষগুলো। বর্তমানে পাঠদানসহ সব কার্যক্রম চলছে ঝুঁকিপূর্ণ চার তলাবিশিষ্ট বিজ্ঞান ভবন এবং তিনতলার একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে। ছাত্রী অনুযায়ী ৩০টি কক্ষের বিপরীতে পাঠদান করানো হয় মাত্র ১০টিতে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান বিভাগসহ প্রতিটি কক্ষে পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়। তবু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই একরকম বাধ্য হয়ে আমরা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে নিচ্ছি।’

এদিকে ছাত্রীদের আবাসিকেও সংকট। দুটি হোস্টেল ভবনের মধ্যে ২০০৫ সালে একটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর ১০০ শয্যার হোস্টেলে গাদাগাদি করে থাকছেন দেড় শ ছাত্রী।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. তাজুল ইসলাম ভবন ও শিক্ষকসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশলীর একটি দল পরিদর্শন করেছে।’
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপংকর খীসা বলেন, ‘ইতিমধ্যে কলেজটির ছয় তলাবিশিষ্ট একটি বিজ্ঞান ভবন নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন