
উপজেলা প্রতিনিধি, কবিরহাট : আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে কোন প্রকারের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোন মানুষ ভূমিহীন থাকবেনা, বাংলাদেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার আলোকে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ সারা বিশ্বের কাছে নন্দিত হয়েছে। তাই প্রকল্পটি যেন সুচারু ভাবে টিকসই মানের নির্মাণ করা হয় তারজন্য আমরা সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এই ঘর নির্মাণ প্রকল্পটি পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, সরকার সব সময় অসহায় মানুষের পক্ষে আছে। নোয়াখালীতে কেউই গৃহহীন থাকবেনা। আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার পেলেন। আগামীতে সকল সুযোগ সুবিধা অব্যাহত থাকবে। আমি আশাবাদি বর্তমান সময়ে যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো যথাযথভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে কারো কোন অবহেলা কিংবা কোন প্রকারের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
এ সময় জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমৃত দেব নাথ, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল খাঁনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২য় পর্যায়ে ২৪৮টি গৃ্হ মোট ৩২২ টি একক গৃহ নির্মাণ করা হয় এবং উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও নলুয়া ২ নং ওয়ার্ডে জরাজীর্ণ ব্যারাকের ৩০০টি কক্ষের পরিবর্তে সেমিপাকা একক গৃহ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০টি ঘরের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়ে ব্যারাকে বসবাসকারীদের হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকী ২০০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীগ্রই আমরা উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরমহিউদ্দিন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের কম্বল বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।
পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণ কাজের অগ্রগতি তদারকি করেন এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী লোকজনের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বৃক্ষরোপণ ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
জেলার জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, চরমহিউদ্দিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪৪ টি জরাজীর্ণ ব্যারাকের ১৪৪০ টি কক্ষের পরিবর্তে সেমিপাকা একক গৃহ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২০ টি ঘরের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ায় ব্যারাকে বসবাসকারীদের হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ২০০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা অতিদ্রুত বাকি ঘরগুলো বুঝিয়ে দিবো।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০ টায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত হয়ে নোয়াখালীর ৪১৮ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও সেনবাগ উপজলাকে গৃহহীন ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেন। জেলায় মোট ভূমিহীন পরিবার ছয় হাজার ২৭৮ জন। যার মধ্যে ৪টি পর্যায়ে তিন হাজার ৯৯০ টি পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে প্রশাসন।
আপনার মতামত লিখুন :