
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : জেলাতে বন্যায় গবাদি পশু ও হাঁসমুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মারা গেছে ৮৮২টি, যার মূল্য ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি।
এসব অসুস্থ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সরকারিভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তবে অসুস্থ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস্ (এসডিআই)।
বুধবার (১৮ সেপ্টম্বর) সকালে জেলার সদর উপজেলার উত্তর মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পাঁচ শতাধিক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসাসেবাসহ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন-ওষুধ প্রদান করে সংস্থাটি।
ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহ নেওয়াজ খোকন। এসময় প্রাণী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল নোয়াখালী সদদর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মেমা বদিউল আলম, এসডিআই সংস্থার নোয়াখালী জোনের জোনাল ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, খলিফার হাট শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, বন্যায় তাদের অনেক গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার গবাদিপশু। এসময়ে তারা সরকারিভাবে কোন ডাক্তার, চিকিৎসাসেবা কিংবা ওষুধ পাননি। প্রাণী সম্পদ রক্ষায় দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন-ওষুধ সরবরাহের দাবি জানান তারা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহ নেওয়াজ খোকন বলেন, বন্যার শুরু থেকেই আমরা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসাসেবায় বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন। বিনামূল্যে দিয়েছেন ভ্যাকসিন ও ওষুধ। তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার শুরু থেকে গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যাবস্থায় কাজ করছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা করার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তালিকা তৈরি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :