প্রকাশিত: 3 November, 2024
সর্বশেষ আপডেট : 3 November, 2024

সোনাইমুড়ীতে তহশিলদার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ি: সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এতে সেবা গ্রহিতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা রবিবার (৩ নভেম্বর) সকালে তহসিল অফিসে হট্টগোল করলে পালিয়ে যান সহকারী তহশিলদার।

পরে বিকালে ভুক্তভোগী সোনাইমুড়ীর মির্জানগর গ্রামের আবুল কাশেম (৬৫), কৃষ্ণপুর গ্রামের জহির উদ্দিন (৬০) ও ঘোষকামতা গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলাম(৫৫) একটি লিখিত অভিযোগ নোয়াখালী জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী তহশিলদার কফিলউদ্দিন পার্শ্ববর্তী সেনবাগ উপজেলার কেশারপার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময় ব্যপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের যোগদান করেন। এখানেও অনিয়মের চর্চা করতে থাকেন। সাধারন সেবা গ্রহিতাদের নানা ভাবে হয়রানি ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নামজারির চুক্তি করে থাকেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে খোদ তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

মির্জানগর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে অভিযোগ করে জানান, চারমাস পূর্বে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি নামজারি করতে বজরা ইউনিয়ন তহশিল অফিসে যান। সহকারী তহশিলদার কফিলউদ্দিন নামজারি করতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দেনদরবার শেষে ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। চার মাস অতিবাহিত হলেও নামজারির কাগজপত্র দেয়নি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়না। অফিসে এলেও ঘুষ গ্রহণ করা সেবাগ্রহীতাদের দেখলেই পালিয়ে যান।

কৃষ্ণপুর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জহির উদ্দিন একই ভাবে অভিযোগ করে জানান, গত পাঁচ মাস পূর্বে তার সাড়ে ৫ শতাংশ জমি নামজারির জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন কফিলউদ্দিন। এত দিনেও কাজ না করে ঘুরাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আজ-কাল তারিখ দিলেও নামজারি সস্পন্ন হয়নি পাঁচ মাসেও। মোবাইলে কল দিলে ধরেনা, অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় না।

রবিবার সকাল ১১ টার দিকে সরেজমিনে বজরা ইউনিয়ন তহশিল অফিসে গেলে ঘোষকামতা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, তার ১৪৫ শতাংশ সম্পত্তি নামজারি করতে সহকারী তহশিলদার কফিলউদ্দিনকে ছয় মাস পূর্বে কাগজপত্র দেন। নামজারি করে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। প্রথমেই ৩০ হাজার টাকা দেন কফিলউদ্দিনকে। কাজ শেষে বাকি ২০ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। তবে এখনো তিনি কাজটি করে দেননি। অফিসে এসেও এখন তাকে আর পাওয়া যায়না।

বজরা ইউনিয়ন তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সহকারী তহশিলদার কফিলউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ঠিকমতো অফিসে আসেননা। বহু জমির মালিকের কাছ থেকে নামজারির কথা বলে টাকা নিয়েছেন। এখন জমির মালিকদের দেখলে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

নাটেশ্বর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মোঃ ইয়াসিন(৬০) জানান, রবিবার সকাল ১১ টার দিকে ৭-৮ জন ভুক্তভোগী বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন ঘুষের টাকা ফেরত নিতে। কফিলউদ্দিন টেরপেয়ে তহশিল অফিস থেকে পালিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে বজরা সহকারী তহশিলদার কফিলউদ্দিনের বক্তব্য নিতে অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আলম জান্নাত বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন