প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৯ জুন, ২০২৫

সদরে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবি, হামলা-লুটপাট, আহত ২

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামে এক লাখ টাকা চাহিত চাঁদার ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেও বাকি ৭০ হাজার টাকা না দেওয়ায় কথিত বিএনপি নেতা মজিদ মাঝির নেতৃত্বে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করার অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায় বাধা দেওয়ায় নারী-পুরুষকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

রোববার নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ঘটনায় বিএনপির নেতা মজিদ মাঝিসহ ৪জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এরআগে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের শুল্লকিয়া গ্রামের হানিফের দোকানে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের চৌধুরী মিয়ার ছেলে মো. হানিফ (৫০) ও তাঁর স্ত্রী আজিমা বেগম পাখি (৪৫)।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের মৃত ননঅ মিয়ার ছেলে কথিত বিএনপি নেতা মজিদ মাঝি (৫০), আব্বাস উদ্দিন (২০), মো. মহিন উদ্দিন (২৩), মো. নুরুল হক (৪৮)।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় মজিদ মাঝি ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। সরকার পতনের পর মজিদ মাঝি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কায়েম করে আসছে। সাম্প্রতিক মজিদ মাঝি ভুক্তভোগী মো. হানিফের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদার টাকা না দিলে এলাকা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে অসহায় হয়ে ধার- দেনা করে প্রথমে ২০ হাজার, পরে আরো ১০ হাজার টাকা মজিদ মাঝিকে প্রদান করা হয়। কিন্তু মজিদ মাঝি বাকি ৭০ হাজার টাকা চাঁদার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে, তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার দুপুরে মজিদ মাঝি ও তার লোকজন হানিফের দোকানে হামলা চালিয়ে দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এসময় চাঁদাবাজদের বাধা প্রদান করলে তারা ভুক্তভোগী হানিফ ও তার স্ত্রী পাখিকে পিটিয়ে গুরত্বর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত মজিদ মাঝি চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার পাশে কয়েকটি কলা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় হানিফের পরিবারের। এখানে কোন হামলা, লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, এই ধরনের ঘটনায় থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন