
হুমায়ন আকাশ বাংলা টাইমস-ই
দীর্ঘ তিন দশক ধরে সুদূর ইংল্যান্ডে বসবাস করেও নাড়ির টান ভোলেননি তিনি। প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও মন পড়ে থাকে নিজ মাতৃভূমিতে। বলছিলাম ব্রিটিশ নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশী অনামিকা আজমের কথা। নিজের মাতৃভূমি নোয়াখালীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থভাবে মানবিক কাজ করে সমাজসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনামিকা আজম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রবাসে সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে তিনি সবসময় তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কোনো প্রচার বা প্রচারণার তোয়াক্কা না করে নীরবে-নিভৃতে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক জনকল্যাণমূলক কাজ। নোয়াখালী ও সারাদেশে মানবিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে নিজের শিকড় নোয়াখালীতে তার মানবিক ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি পৌঁছেছে। তিনি এলাকায় নিঃস্বার্থভাবে যেসব কাজ করে যাচ্ছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অসহায়দের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা: দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান। শিক্ষা ও পুনর্বাসন:সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং এতিম-দুস্থদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ।দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ বন্যা, শীত বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত এলাকায় উপস্থিত হয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। অনামিকা আজমের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ দেখে স্থানীয় মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা উপাধিতে ভূষিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের দুর্দশায় অনামিকা আজমের মতো এগিয়ে আসার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তার এই উদ্যোগ শুধু অসহায় মানুষের মুখে হাসিখুশি ফোটাচ্ছে না, বরং সমাজে বিত্তবানদের প্রতি এক দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।নিজের মানবিক কাজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অনামিকা আজম জানান, প্রবাসে থাকলেও তার হৃদয়ে সবসময় বাংলাদেশ ও নোয়াখালীর মানুষের বসবাস। মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পারাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা। আমৃত্যু তিনি এই দেশের অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যেতে চান। অনামিকা আজমের এই অনন্য মানবসেবা ও উদারতা দেশের প্রবাসীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং পুরো নোয়াখালীবাসীর জন্য এক গর্বের বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :