প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০২৫

নিঝুমদ্বীপে জোয়ারে লোকালয়ে বন্য হরিণ

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে দ্বীপের বড় অংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে বনের গভীরে থাকা বন্য চিত্রা হরিণ লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। বিরল এই প্রাণীগুলোর জীবন এখন যেমন হুমকির মুখে, তেমনি শিকারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে দিনে দুইবারের জোয়ারে দ্বীপের অধিকাংশ নিচু এলাকা ডুবে যাচ্ছে। ফলে হরিণদের স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল পানির নিচে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে তারা এখন লোকালয়ের উঁচু জায়গা, বাড়ির আঙিনা, স্কুল মাঠে আশ্রয় নিচ্ছে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের নামার বাজার এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম বলেন,
“সাধারণত বর্ষায় হরিণ লোকালয়ে দেখা যায়। তবে এবার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় হরিণগুলো বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে।

হরিণ লোকালয়ে আসায় শিকারিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেউ কেউ রাতে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরার চেষ্টা করছে। এতে নিঝুমদ্বীপের জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
বন বিভাগের নিঝুমদ্বীপ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “জোয়ারের কারণে হরিণ লোকালয়ে চলে এসেছে। বন বিভাগ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। শিকারি বা ফাঁদ পেতেছে এমন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দেরও আহ্বান জানানো হয়েছে হরিণদের আশ্রয়ে সহযোগিতা করতে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিঝুমদ্বীপে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ হাজার চিত্রা হরিণ রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষাকালে জোয়ারের পানিতে তাদের জীবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে টেকসই আশ্রয়ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, ঘূর্ণিঝড়, জলস্তর বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিঝুমদ্বীপে নির্দিষ্ট উঁচু জায়গায় আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা দরকার। তা না হলে দেশীয় জীববৈচিত্র্যের অন্যতম এই সম্পদ বিলুপ্তির পথে যেতে পারে।

আরও পড়ুন