প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০২৫

হাতিয়ায় জোয়ারে ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, প্লাবিত বিস্তীর্ণ জনপদ

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : অমাবস্যা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে পানির তোড়ে ডুবে যায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের ও হাঁস-মুরগির খামার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুখচর ইউনিয়নের ২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা ৪ নম্বর ওয়ার্ড, চরইশ্বর ও হরণী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপের কিছু অংশ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া ও চর আতাউরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা জেলে পল্লীর বাসিন্দা বিলকিছু বেগম বলেন, “জোয়ার এলেই আমাদের বাঁচা-মরার লড়াই শুরু হয়। বারবার ঘরবাড়ি ভেসে যায়। আমরা শুধু চাই একটি টেকসই বেড়িবাঁধ—যেন অন্তত জীবনের নিরাপত্তা থাকে।
চরচেঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মন্নান রানা বলেন, “উপকূল রক্ষা করতে মানবিক সহানুভূতি বা বার্ষিক বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। দরকার জলবায়ু সহনশীল, ইঞ্জিনিয়ারিংভাবে সঠিক ও টেকসই বেড়িবাঁধ। একইসঙ্গে থাকতে হবে আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানি ও সাইক্লোন শেল্টার প্রকল্প। সবকিছুতেই স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তুফানিয়া গ্রামের ইউসুফ মাঝি জানান, “জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকে কৃষিজমি ও মাছের ঘের নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো অঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী জানান, “অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট উচ্চ জোয়ারে তুফানিয়া, আল-আমিন গ্রাম, নলচিরা, চরইশ্বর ও হরণীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

উপকূলীয় হাতিয়ায় প্রতিবছরই এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি স্থানীয়দের জীবনকে করছে অনিশ্চিত। টেকসই অবকাঠামোর অভাব, জলবায়ু সহনশীল পরিকল্পনার ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দের অভাবে দুর্ভোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই।

আরও পড়ুন