প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৪

আওয়ামীলীগ নেতার নিকট থেকে পাওনা টাকা পেরত পেতে মানববন্ধন

উপজেলা প্রতিনিধি,কবিরহাট: কবিরহাট উপজেলার ১নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ. কে. এম সিরাজ উল্লাহ প্রকাশ সিরাজ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে ইট কেনার পাওনা ৩৩ লাখ টাকা পেরত পেতে মানববন্ধন করেছে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হানিফ নামের এক ভূক্তভাগী । রবিবার দুপুরে বিজবাগ সর্বস্তরের এলাকাবাসীর ব্যানারে চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের সামনে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হানিফ সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিনের বাসিন্দা। এ সময় বক্তব্য রাখেন,

চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভূক্তভোগী রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ হানিফ ,চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) কে এ এম দাউস সহ আেেরা অনেকে। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হানিফ জানান, আওয়ামীলীগ নেতা একেএম সিরাজ সিরাজ উল্লাহ নিকট থেকে তিনি বিগত ৫বছর পূর্বে বসতঘর নির্মান করার জন্য নগদ ৩৩ লাখ টাকার ইট ক্রয় করেন। কিন্তু সিরাজ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইট না দিয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি দমকি প্রদান করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে হানিফ টাকা উদ্ধারে নোয়াখালীর অর্থ ঝণ আদালতে সিরাজ উল্যাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালত সিরাজ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। যার স্মারক নং-২২৩২/১৫ মূলে তাকে গ্রেফতার করার জন্য জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দিলেও অদৃশ্য খুটির জোরে দীর্ঘ এক বছরেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,এক বছর পূর্বে আদালত এই গডফাদার সিরাজকে

গ্রেফতারের জন্য নোয়াখালী পুলিশ প্রসাশনকে নির্দেশ দিলেও কোন অদৃশ্য খুঁটির জোরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না এ নিয়ে জেলার সর্বত্র জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী জানান, বর্তমান অন্তবর্তিকালীন সরকারের সফলতার দুই মাসের অধিক সময় পার হলেও এই শীর্ষ গডফাদার এখনো প্রকাশ্যে বীরদর্পে চলাফেরা করছে। অথচ টাকার অভাবে আমাদের এক সময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী মোঃ হানিফ তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে

চিকিৎসা করাতে পারছেন না। হানিফ করুন কন্ঠে কলেজের অধ্যক্ষ সহ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বহু কষ্টার্জিত ঘামের টাকা এই ৩৩ লাখ টাকা যেন অবিলম্বে ফেরত পেয়ে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত প্রিয়তমা স্ত্রীর অন্তিম ইচ্ছা অর্থ্যাৎ তাঁর সু-চিকিৎসা করানোর কাজে ব্যয় করতে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিকট টাকাগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানান।

কে এই সিরাজ চেয়ারম্যান ? এ. কে. এম সিরাজ উল্লাহ প্রকাশ সিরাজ চেয়ারম্যান নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ১নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি । ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও তার প্রভাব বিস্তার ছিল ব্যাপক, যার মধ্যে কবিরহাট উপজেলাধীন কবিরহাট পৌরসভা ও ইউনিয়ন সমূহ যথাক্রমে: ১নং নরোত্তমপুর, ২নং সুন্দলপুর, ৩নং ধানসিঁড়ি, ৪নং ঘোষবাগ, ৫নং চাপরাশিরহাট, ৬নং

ধানশালিক, ৭নং বাটইয়া এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন ইউনিয়নসমূহ যথাক্রমে: ১নং বড় রাজাপুর, ২নং চর পার্বতী, ৩নং চর হাজারী, ৪নং চর কাঁকড়া, ৫নং চর ফকিরা, ৬নং রামপুর, ৭নং মুছাপুর, ৮নং চর এলাহীসহ আশপাশের এলাকাতেও ছিল তার রাজত্ব। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের কোনো কমিটি তাঁর ইশারা ছাড়া হয়নি। বিভিন্ন কলেজ, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে তাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দাপিয়ে বেড়ায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।

ক্ষমতার দাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নিকট হতে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছিল তার প্রভাব বিস্তার। ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, খুন, চাঁদাবাজি, কলেজগুলোর হোস্টেল দখল, কর্মকর্তাদের মারধর, যৌন হয়রানি, ভাঙচুর ও শিক্ষক-ঠিকাদারদের হুমকির পেছনে ছিল সিরাজপন্থীদের

আধিপত্য। গেল কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। যার নেতৃত্বে ছিলেন এই সিরাজ। এছাড়াও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার ট্রেন্ডারবাজী সহ যাবতীয় অপকর্মে সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলো সিরাজ চেয়ারম্যান

 

আরও পড়ুন