প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জুন, ২০২৫

হাথুরুর ‘চড়কাণ্ড’ নিয়ে যা আছে বিসিবির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির দেওয়া রিপোর্ট নিয়ে হৈ-চৈ দেশের ক্রিকেটাঙ্গণে। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নাসুম আহমেদকে তৎকালীন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ‘চড়-কাণ্ডে’র ঘটনা। এছাড়া সাকিব-তামিম দ্বন্দ্বসহ বেশ কিছু আলোচিত বিষয় উঠে এসেছে ঐ রিপোর্টে।

কমিটির কাছে সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটার নাসুম আহমেদকে কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহের লাঞ্ছিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তৎকালীন এক কোচিং স্টাফ। আর ঐ সময় দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের দাবি, সেই ঘটনা ফাঁস করতে উস্কানি দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান কোচ (চন্ডিকা হাথুরুসিংহে) ও সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয় ছিল স্পষ্ট। সে যা-ই হোক, প্রধান কোচের সঙ্গে অধিকাংশ ক্রিকেটারের সম্পর্ক ভালো ছিল।

চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন হাথুরু-নাসুম কাণ্ডের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নিকোলাস লি। এবং নাসুমের ঘাড়ে হাথুরুর আঘাত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

সাবস্টিটিউট হিসেবে থাকা নাসুমকে ক্রিজে থাকা ব্যাটসম্যানদের কিছু একটা দ্রুত দিয়ে আসতে বলেছিলেন হাথুরু। সেখানে কালক্ষেপণ করায় রেগে গিয়ে তার কলার ধরে টান দেন লঙ্কান কোচ। এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪৬ দিনের টুর্নামেন্টে ক্রিকেটাররা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বাড়ির প্রতি টান ও ক্লান্তিই ছিল আসল চিন্তার বিষয়।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের মাঝে ভালো বন্ধন থাকলেও সেসময়কার কোচিং স্টাফদের মাঝে বিভেদ ছিল বলে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোচিং গ্রুপে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এক পর্যায়ে হাথুরু নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। হাথুরু ও তৎকালীন বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড দলের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে নাখোশ ছিলেন। ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট জানতে পেরেছিলেন যে বিশ্বকাপের পর তাঁর চুক্তি নবায়ন নাও করা হতে পারে। হাথুরুর ব্যাপারে খুবই অখুশি ছিলেন ম্যাকডারমট। হাথুরু ব্যাপারটার সমাধান করেননি, এমনকি কোচদের মধ্যে ঐক্য আনতে পারেননি।

তাতে হাথুরুর ম্যানেজমেন্ট স্কিল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অন্যান্য কোচ ও শ্রীধরন শ্রীরাম নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েছেন। কোচদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দলের সদস্যদের মধ্যে। বিশেষ করে, নিকোলাস লি, শেন ম্যাকডারমট কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন ও ক্রিকেটারদের সাহায্য করতে যখন প্রয়োজন, তখনই ঝাঁপিয়ে পড়তেন। কিন্তু ভেতরের দ্বন্দ্বের কারণে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তাঁরা।

এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রিকেটাররা সব সময় ব্যর্থতার ভয় নিয়ে খেলতেন। তাঁরা মনে করতেন, বাজে খেললে দল থেকে বাদ পড়াও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল সারির গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার সমালোচনার কারণে ক্রিকেটাররা বেশি অস্বস্তিতে থাকতেন।

আরও পড়ুন