প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ জুন, ২০২৫

সিজিপিএ দিয়ে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না : নোবিপ্রবি অধ্যাপক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সদ্য ঘোষিত সিজিপিএ ভিত্তিক ছাত্র পরিষদ গঠন নীতিমালাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন বিজ্ঞপ্তির পর থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এবার এই বিতর্কে সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করেন, “সিজিপিএ দিয়ে কখনোই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।” তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-আন্দোলন তিনি যৌক্তিক মনে করেন।

ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক মাসুদ লেখেন, “নোবিপ্রবিতে ছাত্র পরিষদ নিয়ে একটি নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া আমি লক্ষ্য করেছি। একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিতর্কিত নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে ২০০৮ সালের রিজেন্ট বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত, যা বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক। তার ভাষায়, “২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪-৫টি, শিক্ষক ২০-৩০ জন, শিক্ষার্থী এক-দেড় হাজার। অথচ এখন বিভাগ ৩১টি, শিক্ষক ৪০০-এর বেশি এবং শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। সেই সময়ের সিদ্ধান্ত বর্তমান বাস্তবতায় কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটাই এখন প্রশ্ন।”

নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় তিনি লেখেন, “অনেকেই বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে আমি জড়িত। আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এ নীতিমালার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং আমি এটি আগে জানতামও না।”

সিজিপিএ নির্ভর নেতৃত্বের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সিজিপিএ দিয়ে কখনো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। আমরা জুলাই বিপ্লবে কোনো উচ্চ সিজিপিএধারীকে রাস্তায় জীবন বাজি রাখতে দেখিনি। বরং দেখেছি কিছু সাহসী তরুণ-তরুণীকে, যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।”

২০০৮ সালের ঐ সিদ্ধান্তকে তিনি ‘জুলাই ২৪ আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী বলেও আখ্যা দেন।

পোস্টের একদম শেষে এসে ড. কাইয়ুম শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, “শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনের সঙ্গে আমি একাত্ম ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমি আশাবাদী, প্রশাসন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বর্তমানে এই পোস্ট নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। অনেকেই বলছেন, শিক্ষক সমাজের এমন সাহসী উচ্চারণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় রকমের মানসিক শক্তি হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন