
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়ার বুড়িরচর ছৈয়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহিদুল ইসলাম টুটুলের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছে শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী লাঞ্ছনা, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, মাদকাসক্তি ও শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা। এসব অভিযোগে পুরো বিদ্যালয় ও এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে আসে। পরে উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকে — “অন্যায় সইবো না, টুটুল স্যারের অপসারণ চাই।
“মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষক মানি না, মানবো না।” নারী লাঞ্ছনাকারীর স্থান কারাগারে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ:মানববন্ধনে এক ছাত্রী বলেন,“স্যারের আচরণে আমরা সবসময় আতঙ্কিত। ক্লাসে আমাদের সাথে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। মা-বাবার সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন। দুই মাস ধরে স্কুলে না আসায় পড়াশোনায় ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে।
আরেক ছাত্র বলেন,প্রধান শিক্ষক স্কুলে থাকলে ও পড়ান না। পড়ার কথা বললে রাগ করেন। দ্রুত অপসারণ করতে হবে, নইলে বড় আন্দোলন হবে।”
প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হতে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও তিনি কম সময়ে পদোন্নতি পান।
উপবৃত্তিপ্রাপ্ত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বেতন আদায় করা হয়। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরও সহকারী ও প্রধান শিক্ষকের দুই পদের বেতন উত্তোলন করেছেন, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধ।
দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি পলাতক অবস্থায়ও হাজিরা দেখানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সব ধরনের আয় নিজের কাছে রেখে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। ফলে সহকারী শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম হেনাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।
মাদকাসক্ত অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন পলাতক থেকে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে স্বেচ্ছাচারী ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক আচরণ করেন। চায়ের দোকান ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,প্রধান শিক্ষকের ভয়ে শিক্ষকরা মুখ খুলতে পারতেন না। তার অপকর্মে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ভেঙে পড়েছে। এমন একজন মাদকাসক্ত ও নারী লাঞ্ছনাকারীর কাছে বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ নন।”
অভিভাবকরা বলেন,বিদ্যালয় হলো আমাদের সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়। মাদকাসক্ত ও দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মানুষের হাতে স্কুল থাকতে পারে না। দ্রুত অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যায়। সেখানে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ, তার অপকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :