প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০২৫

সোনাইমুড়ীতে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে মারধর : দোকান ভাঙচুর

মোহাম্মদ হানিফ নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনাইমুড়ীতে দিনের আলোয় এক ব্যবসায়ীর ওপর ভয়াবহ ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সোনাইমুড়ী থানাধীন বজরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শাহী ঝালমুড়ি নামক দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন মাসুদ (৪২) এবং তার কিশোর কর্মচারী মোঃ ফয়েজ (১৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করে নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী মাইন উদ্দিন মাসুদ সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে মাইন উদ্দিন মাসুদের শাহী ঝালমুড়ি দোকানের সামনে একটি অজ্ঞাত সিএনজি একটি অটো রিক্সাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর সিএনজি চালক বেপরোয়াভাবে অটো চালককে মারধর শুরু করে। এই অমানবিক দৃশ্য দেখে ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন মাসুদ প্রতিবাদ করেন, যা কাল হয় তার জন্য। প্রতিবাদ করায় সিএনজি চালকের সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি হয়।

কথাকাটাকাটির জের ধরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। সিএনজি চালক মোঃ হাসান এবং তার সহযোগী মোঃ রবি (১৮), মোঃ জুমন (২০), মোঃ অনিক (১৯) সহ আরও অজ্ঞাত ৬-৭ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে এসএজ পাইপ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাইন উদ্দিন মাসুদের দোকানে বর্বরোচিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা প্রথমে শাহী ঝালমুড়ি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা, একটি বাটন ফোন এবং একটি স্মার্ট ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে অজ্ঞাত সিএনজি চালক হাতে থাকা এসএজ পাইপ দিয়ে মাইন উদ্দিন মাসুদের ডান চোখের উপরে সজোরে আঘাত করে, এতে তার চোখ রক্তাক্ত জখম হয় এবং তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীকে মারধর করতে দেখে দোকানের কর্মচারী মোঃ ফয়েজ (১৬) হামলাকারীদের বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকেও বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হতে হয়। ১, ২ অন্তত ৩নং বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ফয়েজের শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে গলা টিপে হত্যা করারও চেষ্টা করা হয়। ফয়েজের শরীরেও গুরুতর চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। হামলাকারীরা উভয়েকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
হামলাকারীরা কেবল হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মাইন উদ্দিন মাসুদ ও সাক্ষীদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে বলে যে, এ ঘটনার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে যেখানে পাবে সেখানেই খুন-জখম করা হবে।

ঘটনার পর ২ ও ৩নং সাক্ষী এবং আশেপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত মাইন উদ্দিন মাসুদ ও মোঃ ফয়েজকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মাইন উদ্দিন মাসুদ জানান, ঘটনার আকস্মিকতা, আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থা এবং আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি অজ্ঞাত সিএনজি চালক, মোঃ হাসান, মোঃ রবি, মোঃ জুমন, মোঃ অনিক সহ জড়িত সকল অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই ধরনের প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজকে গভীরভাবে আতঙ্কিত করেছে। এলাকাবাসী পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন।

আরও পড়ুন