প্রকাশিত: 9 January, 2025
সর্বশেষ আপডেট : 9 January, 2025

জাতীয় দলকে ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ তামিমের?

নোয়াখালীর কথা স্পোর্টস ডেস্ক : তামিম ইকবালের জাতীয় দলে ফেরা-না ফেরা দেশে আলোচিত বিষয়। বাঁহাতি এই ওপেনারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যেমন নিয়মিত খবর হয়, তেমনি না ফেরা নিয়েও। যদিও তামিম জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি কাছের মানুষকে অনেকবারই বলেছেন, জাতীয় দলে আর খেলবেন না। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারের এমন সিদ্ধান্ত মূলত অভিমান থেকে।

কারণ, ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তিক্ত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তীব্র অভিমানে বিশ্বকাপ দল থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর পর চেষ্টা করেও বিসিবি তাঁকে জাতীয় দলে ফেরাতে পারেনি। কারণ, প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। নির্বাচকরাও যোগাযোগ করেননি।

এই প্রথম গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নির্বাচক প্যানেল বসেছিল তামিমের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফেরার অনুরোধ জানাতে। নির্বাচকদের আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও অনুরোধ করেছিলেন বাঁহাতি ওপেনারকে। এই আন্তরিক আহ্বানে তামিমের মন একটু হলেও নরম হয়েছে। তিনি তাই নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে নির্বাচকদের কাছ থেকে দু’দিন সময় চেয়ে নিয়েছেন। তবে তামিমের কাছের অনেকেই মনে করেন, সিদ্ধান্ত ইতিবাচক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তামিম। বিশ্বকাপ দলে নির্বাচিতও হয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছু ম্যাচে মিডল অর্ডারে ব্যাট করার প্রস্তাব দেওয়ায় অভিমান থেকে নিজেকে বিশ্বকাপ দলে না রাখার অনুরোধ করেছিলেন নির্বাচকদের। পরে বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক সাকিব এক সাক্ষাৎকারে তামিমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করায় জাতীয় দলে খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন গত বছর।

জাতীয় দলে না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত তামিম। এনসিএল টি২০ ও বিপিএলে ভালো করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফেরার দাবিও জোরালো করেছেন তিনি। বিসিবিও বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। গতকাল দুই দফা মিটিং করে তামিমকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেন লিপু, ‘সামনে আমাদের একটা বড় ইভেন্ট আছে। আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো আলোচনাতেই সঙ্গে সঙ্গে ওই মুহূর্তে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। কারণ, এটি অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত।’

তামিম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে লিপু বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় এসব ইস্যুতে ফেরত আসার ব্যাপারে তাঁর ঘনিষ্ঠজন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব অনেক সময় কিংবা তাঁর প্রিয় কোচ অথবা শুভাকাঙ্ক্ষী, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার একটা ব্যাপার থাকে। সে ক্ষেত্রে একটু সময় নেওয়ার তো ব্যাপার এসেই যায়। আমাদের যেহেতু ১২ তারিখে দল ঘোষণা করতে হবে, তার আগেই আমাদের দলটা দিতে হবে বোর্ডের কাছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, সময় আছে, তাঁকে সময় নিতে দিই; তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তিনি একটা টুর্নামেন্ট খেলছেন, আমাদের প্রাথমিক আলোচনা আমরা সেরে নিয়েছি।’

গতকাল সিলেটের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলে সকাল থেকে দুই দফায় তামিমের সঙ্গে বৈঠক করেন তিন নির্বাচক– গাজী আশরাফ লিপু, হান্নান সরকার, আবদুর রাজ্জাক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের উপব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীস। প্রথম দফায় তামিম সাফ না করে দিলেও দুপুরের সভায় লিপুর অনুরোধে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার ব্যাপারে নমনীয়তা দেখান। তবে তামিম যে জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তা না ভাবাই ভালো। কারণ তামিম বহুবার বলেছেন, ‘একটা সময় তো খেলা ছাড়তেই হবে।’

তামিমের মতো সাকিব আল হাসানেরও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। সাকিবের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না নির্বাচকরা। বিসিবি আশা করছে, আজ-কালের মধ্যে চেন্নাই থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করার। সাকিব পরীক্ষায় পাস করলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে থাকবেন অলরাউন্ডার হিসেবে। ফেল করলে শুধু ব্যাটার হিসেবে দলে নেওয়ার সুযোগ কম বলে জানা গেছে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ জনের দল চূড়ান্ত করতে গতকাল অধিনায়ক শান্তর সঙ্গেও মিটিং করেছেন নির্বাচকরা। যেখানে লিটন কুমার দাসের ফর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তামিম ফিরলে কপাল পুড়তে পারে তাঁর। ১২ জানুয়ারি দল ঘোষণার শেষ সময় হলেও স্কোয়াড পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু বিসিবি চোট বা বড় কোনো সমস্যা ছাড়া কোনো খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে চায় না। অধিনায়ক শান্তও চান, অন্য দেশের মতো একবার দল ঘোষণা করা হলে সে দলের ওপর আস্থা রাখতে।

আরও পড়ুন