প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১ জুন, ২০২৫

সড়কে গবাদিপশু, প্রশাসনের ইজারা বাণিজ্যে সোনাইমুড়ীতে জনদুর্ভোগ

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সোনাইমুড়ী উপজেলায় গবাদিপশুর বাজার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলেও নিবন্ধিত বাজারস্থানের মারাত্মক স্বল্পতা, সড়ক-মহাসড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাজার স্থাপন এবং প্রশাসনের ইজারা আদায়ের নীতিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, উপজেলায় গবাদিপশুর জন্য মাত্র ২টি সরকারি হাটবাজার নিবন্ধিত, যা বর্তমান চাহিদার মাত্র ৩০% পূরণ করে।

প্রতিবছরের মতো এবারও সোনাইমুড়ী, নদনা হাট, কাশিপুর হাট, শান্তির হাট, জয়াগ বাজার, বজরা বাজার, সোনাপুর বাজার, বাংলা বাজার, পশ্চিম নাটেশ্বর, দিঘিরজান বাজার, বটতলী বাজার ও আমিশাপাড়া বাজারে স্থান সংকট চরমে। এর ফলে গরু, ছাগল ও অন্যান্য গবাদিপশু আশেপাশের সড়ক-মহাসড়ক, স্কুল মাঠ এমনকি বাড়ির আঙিনাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

যানজট ও দুর্ভোগ:মূল সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলো গবাদিপশু আর ক্রেতা-বিক্রেতায় অচল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। গবাদিপশুর বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে ব্যবসায়ীরা অস্থায়ীভাবে পশু রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ক্রেতারাও ঠিকমতো পশু নির্বাচন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থান সংকটের চরম অবস্থা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে গরু বাজারের ইজারা আদায় করছে। এক স্কুল কমিটির সভাপতি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করেন, “যেখানে হাট বসানোরই পর্যাপ্ত স্থান নেই, সেখানে ইজারা আদায় নীতিগতভাবে ভুল। এটি একধরনের ‘বাধ্যতামূলক কর’ এর শামিল। প্রশাসনের আয় বাড়লেও মৌলিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”

আব্দুর রহমান (গরু ব্যবসায়ী) বাজারে ঠাঁই নেই, গরু রাখি রাস্তায়। তবু হাট কমিটির লোকজন টাকা চায়। প্রশাসন কি সমস্যা দেখে না?” কামাল হোসেন (সোনাপুর কোঠবাড়িয়া বাজার):হাটের দিনে বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। রাস্তা গরু-ছাগল ভরে যায়। গাড়ি চলে না। অথচ টাকা নিচ্ছে প্রশাসন।”

মোঃ সফিকুল ইসলাম (কৃষক) একটা গরু বেচতে এসে অর্ধেক দিন রোদ-বৃষ্টিতে কাটাই। স্কুল মাঠ ইজারা দিয়ে সরকার টাকা নিচ্ছে-এটা কি সুবিচার?”

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মতিতেই বাজারগুলো দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালার ভিত্তিতে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ইজারাদাররা মাঠ পরিষ্কার করবেন-না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থান সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুন