প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২৫

চর এলাহী ঘাটের চাঁদাবাজির টাকা যায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ঘাটের চাঁদাবাজিকে ঘিরে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয়েছে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল। মাছ, সবজি থেকে শুরু করে মাদকের চালান—সবকিছুর টাকার ভাগ যাচ্ছে শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বিস্ফোরক অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বুধবার থেকে “টক অব দ্য নোয়াখালী” হয়ে উঠেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক কারাগারে যাওয়ার পর ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ নেয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার ও তার সহযোগী ইব্রাহিম তোতার বাহিনী। এরপর থেকেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, হত্যা, দখল-লুট আর সন্ত্রাসে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এলাকা।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ঘাটের প্রতিটি বোট থেকে দৈনিক আয়ের ২০% টাকা তুলে চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক মাষ্টারের কাছে জমা হয়। পরে এ টাকা উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতা ছাড়াও ইউএনও, ডিসি, ওসি-এসপির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ছাত্রদল নেতা ইস্কান্দার মির্জা কথোপকথনে দাবি করেন, তিনি একাই এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন।
তবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, “ঘাটের বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানে না।”

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম জানান, ঘাটের মালিকানা নিয়ে আদালতে রিট থাকায় এখন আর সেটি ইজারা দেওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলগীর আলো বলেন, “সন্ত্রাসীদের বিষয়ে বিএনপির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”

আরও পড়ুন