প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০২৪

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৪০ প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।এর আগে সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখিনূর জাহান নীলা মাছের পোনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যায় ৮৫ হাজার মাছের পুকুর-ঘের বন্যায় ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের মধ্যে রাজস্ব বাজেটের আওতায় মাছের পোনা বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। রোববার (৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৪০ জন প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারী মো. রহমত উল্যাহ বলেন, স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার

বর্তমানে মাছের পোনা দিচ্ছে। যদি আরও বৃহৎ আকারে বা ঋণের সুযোগ করে দিতে তাহলে আমরা ঘুরে দাড়াতে পারতাম। আমরা চাই সরকার দ্রুত চাষীদের পাশে দাঁড়াক। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবো না।
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখিনূর জাহান নীলা বলেন, বন্যায় সদর উপজেলার সকল পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি একবারে প্রান্তিক এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মাঝে চার কেজি করে মাছের পোনা বিতরণ করতে।

যাতে করে তারা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পোনা গুলো রাজস্ব খাতের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে দেওয়ার কথা কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের কথা চিন্তা করে প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নোয়াখালী জেলায় ৮৫ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেলেও কোনো প্রণোদনা পাওয়া যায়নি।তাই মৎস্য অধিদপ্তরের নিজস্ব বাজেট থেকে আমরা প্রায় দুই হাজার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক চাষীদের

মাঝে মাছের পোনা বিতরণ করবো৷ ইতমধ্যে সেনবাগসহ দুই উপজেলায় বিতরণ শেষ হয়েছে। আগামীতে যদি কোনো বরাদ্দ বা প্রণোদনা পাই তাহলে সেভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসময় সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মন্ডল, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌতম চন্দ্র দাস, কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশরেফুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন