
উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর ; জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিচালিত “অপারেশন ডেবিল হান্ট “নামক যৌথ অভিযানে উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী সফি ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ই ফেব্রুয়ারী)দিবাগত রাত প্রায় ২টার সময় অভিযান পরিচালনা করে ভোর ৫টার সময় জেলার সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চর জুবলী ইউনিয়নের ৯নং চর মহিউদ্দিন ওয়ার্ডের চর জিয়া গ্রাম থেকে উপজেলার বনদুস্য ও ভূমিদস্যু, হত্যা ও নারী ধর্ষন ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু কালাম ওরফে শফি বাতাইন্না /শফি ডাকাত (৬৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তার সাথে তার ৪র্থ স্ত্রী হাসিনা বেগমকে ও আটক করা হয়।
এলাকার স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শফি বাতাইন্না সমাজে বিভিন্নধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।সে পূর্বে বৃহত্তর চর জব্বরের চেয়ারম্যান খলিল মিয়ার গরু ও মহিষ চরানোর কাজে নিযুক্ত ছিল, ঐ সময় চরে থাকা অবস্থায় খলিল চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে এবং ২০০১পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমলে উপকূলীয় ম্যানগ্রোব বনের ভিতর সে তার নিজস্ব বাহিনী তৈরি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং সরকারি খাসজমি ও বন উজাড় করে এগুলো দখল করতে থাকে।পরবর্তীতে সে দখলকৃত ভুমিগুলো টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে থাকে, এ সময় যারা তার কথার অবাধ্য হতো তাদেরকে ধরে এনে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো, এছাড়া সে অনেকের সুন্দরী স্ত্রী -কন্যাকে ধরে এনে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতো।
তার বিরুদ্ধে ১১টি বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার ১১তম স্ত্রী তার সাথে ছিল। ২০০৫সালে বিএনপির শেষ আমলে যৌথ অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, অনেকবছর জেল খাটার পর পরবর্তী আওয়ামী সরকারের আমলে জেল থেকে বের হয়ে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে শফি বাতাইন্না থেকে শফি নেতা তে পরিচিতি লাভ করে।এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক হানিফ চৌধুরী কে হাত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।দীর্ঘদিন সে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভপতির পদ ভাগিয়ে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ইত্যাদির সাথে জড়িত ছিল,এমনকি সে এসময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
চর জববর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:শাহিন মিয়া বলেন, চরজব্বর থানায় হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী আবুল কালাম শফি নেতা ওরফে শফি চৌধুরীকে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাত ২টার সময় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।এসময় সে তার লোকজন দিয়ে মাইকে “এলাকায় ডাকাত পড়েছে”বলে ঘোষণা দেয়।পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখে এলাকার লোকজন পিছু হঠে।এসময় তাকে চাকু ও দেশীয় অস্ত্র রামদাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত অস্ত্র আইনে মামলাসহ পূর্ববর্তী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :