
উপজেলা প্রতিনিধি,সুবর্ণচর : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সামান্য বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল সভাপতির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।এতে স্কুলের পাঠদান ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪ টার দিকে থানারহাট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রহিম উল্যাহ রহমত উভয়ের মধ্যে এই হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।সভাপতি এ বিষয়ে অভিযোগ করেন, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।অপরদিকে প্রধান শিক্ষক সভাপতির বিরুদ্ধে ৬লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনেন।
এ বিষয়ে সভাপতি চাঁদা দাবির অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং বলেন,” প্রধান শিক্ষক গতবছর সহকারী প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা আক্তার এর গায়ে হাত তুলে তৎকালীন স্কুল সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বারা সাময়িক বহিষ্কার হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসলে আজকে উনার যোগদান সম্পর্কিত সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে ঝামেলা তৈরি করেন। তিনি এর পূর্বেও স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল আউয়াল স্যারের গায়ে হাত তুলেন।তার অত্যাচারে কোন শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে ভালো ভাবে পাঠ দান করতে পারেনা।”
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষকেরা জানান, “সভাপতিকে প্রধান শিক্ষক এমনভাবে মারধর করেন, যাতে তার গায়ের জামা ছিঁড়ে যায়। “এছাড়া তারা আরো জানান,”আমরা সহকারি শিক্ষকরা বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিয়েও উনার উগ্র আচরণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারছিনা।সাময়িক বহিষ্কারাদেশ এর মেয়াদ শেষে স্কুলে এসে তিনি পুনরায় শিক্ষকদের উপর মানসিক অত্যাচার শুরু করে দিয়েছেন।আমরা উনার আচার ব্যবহারে সব সময় শংকিত থাকি।”উনার পুনর্বারের এমন ঘটনায় আমরা সকল সহকারি শিক্ষক উনার স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করতেছি।”
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা আক্তার শিখা বলেন,” প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান এর আগেও একবার আমাকেও মারধর করেছেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তার বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন মামলার কথা গোপন রেখে কৌশলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তার যোগদানে আমরা আবারও শংকিত রয়েছি। ”
স্কুলটি থেকে সদ্য এসএসসি পাশ করা ছাত্র সাখাওয়াত বলেন,আমাদের স্কুলে বিগত কয়েকমাস ধরে একটা না একটা ঝামেলা লেগেই আছে।এতে করে আমাদের স্কুলের পড়ালেখার যথেষ্ঠ ক্ষতি হচ্ছে,আমরা এর একটি সুষ্ঠ সমাধান চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, নারী কেলেঙ্কারের ঘটনায় ফৌজদারি মামলার আসামী এতদিন পরে কিভাবে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আবারও যোগদান করতে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এরকম ঘটনায় আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত পড়ালেখার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান,৯৯৯নাম্বারে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাবেয়া আসফার সায়মা জানান, তিনি ঘটনা শুনেছেন এবং উভয় পক্ষকে আগামীকালকে বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য ডেকেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :