
উপজেলায় প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিহত যুবদল নেতা এরশাদ মাঝি হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে এবার তার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এরশাদের স্ত্রী খতিজা খাতুন, ভাই ফরহাদ, বোন রহিমা খাতুন ও মামী খতিজা আহত হন।
শনিবার সকালে এ ঘটনায় নিহত এরশাদের স্ত্রী বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৬ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বরও তার ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি জিডি (নং–১০৮৯) করা হয়েছিল।
নিহতের বাবা বৃদ্ধ রইছল হক অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর উপজেলার গুচ্ছগ্রামে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নিজাম বাহিনীর হামলায় যুবদল নেতা এরশাদ মাঝি নিহত হন। তিনি হত্যা মামলা দায়ের করলেও কিছুদিনের মধ্যে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে তারা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে থাকে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি পূরণ না করায় গত ২০ ও ২৩ সেপ্টেম্বর নিজাম ডাকাতের নেতৃত্বে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়। এতে এরশাদের স্ত্রী, ভাই ও বোনসহ চারজন আহত হন।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ হামলার পর সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এখনও এফআইআর হয়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত এরশাদের বাবা রইছল হক বলেন, “একদিকে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের চাপ, অন্যদিকে চাঁদার দাবি ও বারবার সন্ত্রাসী হামলায় আমরা পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকেও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :