
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ তুলে আদালতে দায়ের করা স্ত্রী শিরিন আক্তার মুন্নির মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন বিজিবি সদস্য সোহেল সুলতান (৩৩)।
গত ৯ জুন উচ্চ আদালতের বিচারক মো.আশরাফুল কামাল তাঁকে বেকসুর খালাসের এই রায় প্রদান করেন। সোহেল সুলতান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ল্যান্সনায়েক এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার চর শুল্লুকিয়া গ্রামের সফিক উল্যাহর ছেলে।
মামলার বাদি শিরিন আক্তার মুন্নি সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের আবদুল সাত্তারের মেয়ে এবং সোহেল সুলতানের প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির সদস্য সোহেল সুলতান ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে শিরিন আক্তার মুন্নিকে বিয়ে করেন। তাঁদের বিয়ের দেনমোহর ছিল ছয় লাখ টাকা।
বিজিবি সদস্য সোহেল সুলতানের দাবি, বিয়ের পর সুখে-শান্তিতেই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে শিরিন আক্তার তাদের গ্রামীণ পরিবেশে টিনসেট ঘরে বসবাস করতে নারাজি প্রদান করেন এবং অসুস্থ শাশুড়ির সেবা করতে পারবেন না বলে অযুহাত তুলে বাবার বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে বাবার বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তাব দেয়। এতে আমি রাজি না হওয়ায় ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আমি, আমার মা, বোন ও ফুফুসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও মারধরের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন শিরিন আক্তার। আদালতের নির্দেশে তৎকালীন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলাল হোসেন পিটিশন মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, মামলার ওই রায়ে বিজিবি সদস্য সোহেল সুলতানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদÐ দেয় আদালত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সোহেল সুলতান ২০২২ সালের ০২ নভেম্বর উচ্চ আদালতে আপীল করলে গত ৯ জুন আদালতের বিচারক মো.আশরাফুল কামাল ওই মামলা থেকে তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
বিজিবি সদস্য সোহেল সুলতান বলেন, আমি নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। শিরিন আক্তার মুন্নী একজন মিথ্যাবাদি ও প্রতারক প্রকৃতির নারী। তার মিথ্যা মামলায় আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। মামলার কারণে আমি সামরিক এবং বেসামরিক পরিমন্ডলে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। এছাড়াও ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর চাকুরিচ্যুত হয়েছি। জীবনের এ সময়ে এসে চাকুরী হারিয়ে আমি বর্তমানে বাবা-মাকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আপনার মতামত লিখুন :