প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২২ জুন, ২০২৪

হাতিয়ায় উপঢৌকনের ছাগল নিয়ে বিপাকে জনপ্রতিনিধি

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : ঈদ উপলক্ষে মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলের বাড়িতে উপহারের নাম করে গরু-ছাগল, খাদ্য-দ্রব্য কিংবা টাকা পয়সা সহ যে সকল উপঢৌকন দিতে হয় তা মোটামুটি ভাবে অর্থনৈতিক অত্যাচার হিসেবে বিবেচিত।

এই উপঢৌকনের জন্য আমাদের চারপাশে ঘটে যায় কতোশত ঝামেলা ও বীভৎস্যকর ঘটনা।

শশুর বাড়িতে মেয়ে যাতে সুখে থাকতে পারে সেজন্য বাবা-মাদরা উপহারস্বরূপ ছাগল-গরুসহ ইত্যেকার কতো কিছু যে ছেলের বাড়িতে পাঠায় তার ইয়ত্তা নেই। সেই উপঢৌকনে কোনরূপ ত্রুটি হলে ছেলে পরিবার গঠিয় বসে নানান অঘটন। আর এমনই এক অঘটন ঘটে বসেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নে।

জানা যায়, বছর খানেক আগে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মাইজচরা গ্রামের খায়ের মাঝির ছেলে রুবেল(২৫) এর সাথে একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের এনায়েত হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এনায়েত হোসেন মেয়ের বাড়িতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাদ্য-দ্রব্য পাঠান। এবং এবার ঈদে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে উপহারস্বরূপ একটি ছাগল পাঠান। কিন্তু ছাগলটি পছন্দসই না হাওয়ায় মেয়ের শ্বশুর রিক্সাযোগে ইহা ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পথিমধ্যে রিক্সা থেকে ছাগলটি পড়ে একটি পা ভেঙ্গে যায়। এতে বিপত্তি ঘটে আরেকটা। মেয়ের বাবা পঙ্গু ছাগলটি আর গছতে চাইছেন না। দোটানায় পড়তে হয়েছে রিক্সাওয়ালা ছালাউদ্দিনকে। রিক্সা চালক ছালাউদ্দিন জানান, ছাগলটি নিয়ে আমি মহাবিপদে পড়েছিলাম। যে পক্ষের বাড়িতে নিই সে পক্ষই ফেরত পাঠায়। অবশেষে ছাগলটি নিয়ে সরাসরি মেয়ের শ্বশুর এলাকার মিষ্টু মেম্বারের (সোনাদিয়া ১নং ওয়ার্ড মেম্বার) কাছে জমা দিয়ে ঝামেলামুক্ত হই। রিক্সাওয়ালা ঝামেলামুক্ত হলেও নতুন করে ঝামেলায়যুক্ত হন মিষ্টু মেম্বার। এখন পর্যন্ত ছাগলটি কেউ না নেওয়ায় এর চিকিৎসা খরচ বহন করতে হয়েছে তাকে এক হাজার টাকারও বেশি।

ঘটনা সম্পর্কে মিষ্টু মেম্বার জানান, মেয়ের শ্বশুর খায়ের মাঝি আমার এলাকার বাসিন্দা। রাগারাগি করে হয়তো ছাগলটি ফেরত পাঠিয়েছে। আমি জানার পর ছাগলটি আমার বাড়িতে রেখেছি। বর্তমানে ছাগলটির চিকিৎসা খরচ আমি চালিয়ে নিচ্ছি । দু’পক্ষের সাথে কথা বলে সমস্যাটি সমাধান করে দেব।

এ বিষয়ে ছেলের বাবা খায়ের মাঝির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে মেয়ের বাবা এনায়েত হোসেন জানান, আমার মেয়ে যেন তার শ্বশুর বাড়িতে ভাল থাকতে পারে সেজন্য ছাগলটি পাঠিয়েছি। কিন্তু বেয়াই যা করেছে তা আর বলতে চাই না। পরে আমার মেয়ের অশান্তি হবে।

আরও পড়ুন