প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

মাইজদীতে মহান বিজয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা সমাপ্ত

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বে ও জাতীয় চার নেতার দিকনির্দেশনায় মুজিব বাহিনী গঠন করে ও গেরিলা বাহিনী এবং বাংলাদেশের জনগন একটি সত্তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠত হয়।
দীর্ঘ ৯ মাস ১৮ দিনের যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দেন, ৩ লাখ মা,বোন সম্রম হারানোর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তারপর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মাতা খ্যাত শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ১৯৯২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্ব প্রথম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু করেন। সেই থেকে নোয়াখালী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী শহীদ মিনার অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ করে মেলা করে আসছে। যথাক্রমে ২০২৩ সালে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিচালনা করার জন্য একটি পরিষদ গঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা-২০২৩ পরিচালনা করেন।

২০২৩ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সমন্বয়ে মেলা পরিষদ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বিগত আমলের মেলা গুলোর চাইতে মার্জিত রুচিশীল করতে সাংস্কৃতিক সাহিত্যিক ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিষয়ের আলোকে বিজয় মঞ্চ পরিচালনা করেন। একই সাথে মেলার স্টল গুলোতেও বাংলাদেশের শৈল্পিকতার উপস্থিতি ছিলো।
চার স্তরের নির্রাপত্তর মধ্যদিয়ে, মেলায় আসা বিশাল শিশুদের খুঁজে দেওয়া এবং হারিয়ে যাওয়াদের সর্ব প্রকার সহযোগিতা নিশ্চিত করে বিজয় মেলা পরিষদ পরিচালনা করেন।

পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২৬ ডিসেম্বর রাত ১১ ঘটিকায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের বিজয় মঞ্চে, মেলা পরিষদের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজুল করিম বাচ্চু, বিজয় মেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালিন সাধারণ সম্পাদক আবদুজ জাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মিলন- সাবেক সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান সহ মেলা পরিষদ পরিচালনা কারি সকল সংগঠক ও কলাকৌশলীগণের উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা-২০২৩ এর সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এই সময় আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে ঘাতক ও ঘাদ্দারের ভুলেটে নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন, জাতীয় চার নেতার প্রতি, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের প্রতি, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বুদ্ধিজীবীদের প্রতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বিএলএফের কমান্ডার গণের প্রতি। তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন, সম্রম হারানো সেই ৩ লাখ মা,বোনদের প্রতি। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন যাদের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম বিজয় মেলা শুরু হয়, কিন্তু আজ তাদের যাঁরা মৃত্যু বরণ করেছেন তাঁদের প্রতি। তিনি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার বিএলএফ অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত সাহেবের প্রতি এবং তার স্মরণে এক মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প সংস্কৃতি ক্রীড়াবিদ সাহিত্যিত সাংবাদিক শিক্ষক সকলের সমন্বিত মূর্চ্ছনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ঐতিহ্যের উৎসবের আয়োজন এবারের বিজয় মেলা। আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বিজয় মেলা-২০২৩ এর সমাপ্ত ঘোষণা করে বলেন ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল স্টল তুলে নিয়ে যেন পুরো মাঠ খালি করার নির্দেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন

  • নোয়াখালী সদর এর আরও খবর