প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৪

মাইজদীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ

আলা-উদ্দিন সুজন, সদর : সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী নির্যাতন ও আবু সাঈদ এবং মুক্তকে হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র জনতার অভ্যুথানে ঘটলে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের ক্ষমতার পতন ঘটে। সরকার পতনের পর, সারাদেশে নরকিয় তান্ডব শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যদিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকাল সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু তারা তাদের কার্যক্রম চালু করতে এখনও পারে নাই। নেতবৃন্দের দাবি বর্তমান সরকারের কাছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক সহিংসতা, লুটপাট, ধর্ষণ, ভাংচুর, ভাস্কর্য ভাংচুর, চুরি ডাকাতি, দখলবাজি সহ সকল অপরাধ অপকর্মের তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করতে দাবি জানায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে তারা ছাত্র জনতার অভ্যুথান হিসেবে অভিহিত করে সংগ্রামী অভিনন্দন জানিয়ে তিন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

কর্মসূচি থেকে দাবি তোলা হয়, ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে গণহত্যা সহ সকল হত্যার দ্রুত বিচার, আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনার্সন নিশ্চিত করতে হবে, সাম্প্রতিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, রাজনৈতিক সহিংসতা, লুটপাট, ভাস্কর্য ভাংচুর ও শিল্প সংস্কৃতির উপর আগ্রাসন রুখে দাঁড়ান, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন।

ফ্যাসিবাদ রোধী বাম জোট, জেলার আয়োজনে ১১ আগস্ট ২৪ রোববার বিকাল ৪টায় মাইজদী টাউন হল মোড়ে এই সামবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সাম্যবাদি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক তারেকেশ্বর দেবনাথ নান্টু সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাসূল মানুন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলার, সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ড. আবু তাহের, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তারেকেশ্বর দেবনাথ নান্টু, বাসদের জেলা সমন্বয়ক খায়ের ইমতিয়াজ দাউদ, বাসদ নেতা এড. শ্যামল কান্তি দে। সিপিবি নোয়াখালী জেলা শাখা । এছাড়া জাফর উল্যাহ বাহারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ (মার্কবাদী) জেলা সমন্বয়ক বিটুল তালুকদার।

বিক্ষোভ সমাবেশের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে থেকে শুরু করে জিলা স্কুল পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় মুক্ত স্কয়ার মঞ্চ গুরে টাউন হল মোড়ে এসে সমাবেশ করে।

সমাবেশ এডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাসূল মামুন বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকার গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের কোট কাচারি, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সকল সরকারি সেবায় ঘুষের সিস্টেম চালু করে। এই ঘুষ নেওয়ার সিস্টেমের ভিতরে যারা আছে তাদের মধ্যে এক নাম্বার হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন, আইন আদালত এবং পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারণে খাদ্য দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন ও বৈষম্যমূলক ভূমিকা তৈরি করেছে শেখ হাসিনা। এই ছাড়াও শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থাকে বৈষম্যের শিকার। অর্থাৎ যাদের টাকা আছে তারা সব পাবে আর যাদের টাকা নাই তারা কোন কিছুই পাবে না। বক্তব্যে বলেন, এই সব কিছুই কারিগর শেখ হাসিনা।

তারেকেশ্বর দেবনাথ নান্টু বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জেলায় চারজন শহীদ হয়েছে বলে জেনেছি। এর বাহিরে কতজন শহীদ হয়েছে তাদের তালিকা করে, সেই তালিকা প্রকাশ করতে বলেন। যেই সকল সাম্প্রতিক সহিংসতা হয়েছে, সেই গুলোর তালিকা তৈরি করে ক্ষতিপূরন দিতে হবে। যেই সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান ভেঙেছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যারা সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টিকারিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বশেষ যারা এই সকল প্রকার সহিংসতা চালিয়েছে তাদের চিন্তিত করে গ্রেফতার করতে হবে। আগামী ৯০ দিনের ভেতর না হোক অন্তত ছয়মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সকল দলের অংশগ্রহণ মুলক নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আমরা গণরায়কে স্বাগত জানিয়ে কাজ করবো।

আরও পড়ুন