প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৪

সুবর্ণচরে দিনভর বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : সুবর্ণচরে শুক্রবার দিনভর ও শনিবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফেণী ছোট নদীর উজান থেকে এখনো ধেয়ে আসছে পানি। এতে উপজেলার প্রায় ১ লাখ বাসিন্দা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চর আমান উল্যাহ ইউনিয়ন, চরক্লার্ক ইউনিয়ন, চরজুবিলীর ব্যাগ্যা দোনা, বাংলাবাজার এলাকার মুল সড়কসহ উপজেলার প্রায় সব সড়ক হাঁটুপানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যার কারণে গ্রামের সড়কগুলোতে রিকশা, অটোরিকশার চলাচলও কম। হাঁটু পরিমাণ কাদা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। কম আয়ের মানুষের ভোগান্তি চরমে।

উপজেলার কাজল মার্কেট এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী হোসনেয়ারা বেগম বলেন, শুধু পানি আর পানি । ৩০ বছরে এমন পানি আর দেখেনি। ঘর থেকে বের হলে উঠানে কোমরসমান পানি। ঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। খাটের ওপর চটের বস্তা দিয়ে চুলা রেখে কোনোমতে রান্নার কাজ সারছেন। হোসনেয়ারা বেগম আরও বলেন, আশপাশের সবার একই অবস্থা। আমরা রাস্তার পাশে হওয়ায় একটু ভালো আছি নদী পাড়ের মানুষ কি করছে আল্লাহ ভালো জানে। ঘরে টাকাও নেই, বাজারও দূরে,কিভাবে সংসার চলবে। পানি না কমলে আগামীকাল থেকে না খেয়ে থাকতে হবে।
উপজেলার বাসিন্দারা জানান, ফেনীর ছোটনদীর দিক থেকে তাঁদের এলাকায় হু হু করে পানি আসছে। এ কারণে আকাশে রোদের দেখা পেয়ে বৃষ্টি কম হলেও বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কামাল উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি না হলেও আজ দুপুর নাগাদ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি কমার কোন আশংকা তিনি দেখছেন না। খেতের রোপা আমন ও বীজতলা সব শেষ। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সবকিছু হারিয়ে পথে বসতে হবে অনেককেই।

বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে রান্না করার কোন সুপেয় পানি পাচ্ছে না । অনেক বাচ্চা ইতোমধ্যে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

চরবাটা হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মোহছেন আলম বলেন, বন্যার পানিতে বসতঘরের খাট ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চাল ডাল সব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, চার দিন ধরে ঘরে রান্না বন্ধ। জহির উদ্দিন তুহিন নামের এক ভাই রান্না করা এক পাতিল ভাত দিয়ে গেছে সেগুলো রেখে খাচ্ছি। দূরের দোকান থেকে শুকনা খাবার কিনে এনে খেতে হচ্ছে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের চেয়ে ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি প্রায় অর্ধেক। বৃষ্টি আরও কমে আসবে বলে আশাবাদ তাঁর।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খান বলেন, জেলার ৮টি উপজেলায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় ঘরে রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫০৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ক্ষতির ধরণ ভেদে বন্টন করে দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলায়।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, উপজেলার ৪টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে হাজার খানেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে এ পর্যন্ত ৪৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে আরো লক্ষাধিক টাকা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবার বন্যায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর রোপা আমন ও সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর বীজতলা এবং বিশ হেক্টর এর মতো সবজি খেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য মাছের ঘের নষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন