প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সোনাইমুড়ীতে বন্যাদুর্গত এলাকায় দুর্ভোগে পানিবন্দীরা, তীব্র খাদ্য সংকট

মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : বন্যার পানি কমতে শুরু করার পাশাপাশি  ইতোমধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। নৌকার সংকটে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলায় অপর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার কারণে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবারের শিশু ও বয়স্ক মানুষের। কেউ কেউ একবেলা খেয়েই দিন কাটাচ্ছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে । অনেক কাঁচা বাড়িঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নের অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া  পরিবারগুলোর ৪ শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকের বই-খাতা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে অনেকের বই-খাতা। বন্যাদুর্গত প্রায় সবকটি গ্রামের বাসিন্দারা এভাবেই দিনযাপন করছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ‘বই-খাতা বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। রোদে শুকানোর পর কিছু বই-খাতা উদ্ধার হয়েছে। ২৫ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছি না। বাবা বসে আছেন। কাজ-কর্ম না থাকায় উপার্জন নেই। আমাদের ভাগ্যে ঠিকমতো খাবারও জুটছে না।’

আরাফাত হোসেনের বাবা  জয়নাল আবদীন (৪৪) জানান, তিনি কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। তবে জমানো টাকা সবই শেষ। সংসার চালাতে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।  আর কতদিন থাকতে হবে অন্যের বাড়িতে  সেটাও জানেন না। ‘এই মুহুর্তে ঠিকমতো খাবার যোগাড়ও করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।

সোনাইমুড়ি উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী বই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে অথবা নষ্ট হয়েছে তাদেরকে নতুনভাবে বই দেওয়া হবে। বন্যার কারণে অনেক স্কুলে পাঠদান বন্ধ। স্কুল খোলার পর এসব শিশুদের তালিকা করা হবে।’

সোনাইমুড়ি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা  জানান, চলমান বন্যায়  পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি  হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে খাদ্যের সংকটের খবর পেয়েছি। উপজেলা  প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী প্রতিদিনই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন