
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : যারা আগুন সন্ত্রাস করছে তাদেরকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করতেছে, যারা দেশের মানুষের উপর অগ্নিসন্ত্রাস করতেছে, যারা তালেবান স্টাইলে রাজনীতি করতে চাই, যারা ৭১ এর পাকহানাদার বাহিনীর মতো এদেশের মা বোনদের ইজ্জত নিতে চাই, যার প্রমাণ তারা ২৮ শে অক্টোবরের সময় ওপেন রাস্তাঘাটে মা বোনদের শালীনতার চেষ্টা করেছে, এ আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা যারা স্বাধীনতার পক্ষের লোক আমরা সবসময় লড়ে যাবো এবং শেখ হাসিনার পক্ষে যুদ্ধ করে যাবো। দেশব্যাপী বিএনপি জামাতের তৃতীয় দফায় ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের প্রতিবাদে প্রথমদিনে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী অবস্থান কর্মসূচীতে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেছেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, এমন একটা সময় আসতেছে যে, বাংলাদেশে আরো একটা মুক্তিযুদ্ধ হবে। কারণ ওরা যেভাবে আগুন সন্ত্রাস করতেছে, নিরীহ মানুষকে পুঁড়িয়ে মারতেছে। তাদের সন্তানরা কি জেগে উঠবে না। তারা কি তাদের বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে না। আর আমরা যারা স্বাধীনতার পক্ষে আমরা তো রাতে ঘুমাতে পারি না। একটা সময় আসবে হয়ত আমরা তাদের বাড়ি ঘরে গিয়েও প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবো। আমরা বিএনপি জামাতকে অনুরোধ করবো প্লিজ- কাম ডাউন এবং আসেন রাজনীতিতে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করি।
দেশব্যাপী বিএনপি জামাতের তৃতীয় দফায় ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের প্রতিবাদে প্রথমদিনে নোয়াখালী জেলা শহরে প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসময় শান্তি সমাবেশ ও মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নোয়াখালী জেলা শহরে প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সময়ে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে অবরোধ প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছে জেলা আ’লীগ।
এদিকে সকালে ১০টায় সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে মাইজদী বাজার পর্যন্ত প্রায় শহরের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সার্বিক খোঁজ খবর নিতে এ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগদান করেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরী।
এ সময় হরতাল-অবরোধ, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে এমপি একরাম বলেন, বিএনপি জামায়াত আবারও আগুন সন্ত্রাসের পথ বেচে নিয়েছে, নোয়াখালী মাটিতে তাদের কোন স্থান হবেনা। এসময় তার সাথে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম শামসুদ্দিন জেহান, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মিথুন ভট্ট, নোয়াখালী কোর্টের এপিপি আলতাফ হোসেন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক ইমন ভট্ট, পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার ফখরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা মাইনুদ্দিন সাজুসহ আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীরা শান্তি মিছিল করেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল, নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু শান্তি সমাবেশ ও মিছিলের নেতৃত্ব দেন। শান্তি মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়েই শেষ হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে বিএনপি-জামাতের ডাকা অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি নোয়াখালীতে। দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। হরতাল অবরোধের সমর্থনে জেলা শহরে বিএনপি-জামাতের কোনো পিকেটিং চোখে পড়েনি।
স্কুল, কলেজ ও অফিসমুখী লোকজনও যাতায়াত করতে দেখা যায়। জেলা শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাঠ, খোলা রয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :