
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর পুলিশ প্রশাসনের ১১ দফা পূরণের দাবিতে কর্মবিরতি চলাকালীন সময়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে সাধারণ ছাত্ররা। আবদুল মালেক উকিল সড়কে বহুল পরিচিত টাউন হল মোড়, সুপার কার্কেটের মোড়, জেলা জামে মসজিদের মোড়, সোনাপুর জিরো পয়েন্ট, দত্তের হাট সহ জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের।
দায়িত্ব পালন করা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল আন্দোলনের সমন্বয়ক নির্ধারিত ছাত্রছাত্রীদের দেখা গেছে। এর মধ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে লাল ফিতা বাঁধা ছিল, এই ছাড়া অনেকের মাথায় বিভিন্ন সংগঠনের নাম সম্বলিত সাংগঠনিক পরিচয় ছিল। তবে ছাত্রদল পরিচয় বহন করা কোন সাংগঠনিক পরিচয় সম্বলিত দায়িত্ব পালন কারিদের দেখা যায় নাই।
টাউন হল মোড় ও সুপার মার্কেট মোড়ে দায়িত্ব পালন কারি ছাত্রছাত্রীরা নোয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এম এ রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়, জিলা স্কুল সহ পৌর এলাকার কয়েকটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দেখা গেছে। অন্যদিকে রাস্তার ডিবাইডারে দায়িত্ব পালন কারিদের মাথায় ছাত্রশিবির লেখা ছিল। টাউন হল মোড়ে বিকেলের শিপ্টে ছিলেন ফাহাদ, ইভান, তাওহিদ, সিয়াম, ফাইজা, ফারজানা আক্তার ডালিয়া, লাবনী আক্তার, ছাহাদ।
দায়িত্ব পালন কারি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফারজানা আক্তার ডালিয়া জানায়, তাদের সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক প্রতি মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে ছয়জনের একটি করে ট্রিম তৈরি করে দেন। এই ট্রিম গুলো ছয় ঘন্টার দায়িত্ব পালন করে চলে যায় এবং পরবর্তী দায়িত্বশীল ছাত্রছাত্রীরা স্বস্থানে এসে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করবে। তবে এই ট্রিম গুলোর একটির সাথে অন্যটির যোগাযোগ বা সম্পর্ক নাই।
সাধারণ ছাত্রছাত্রী দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হলে সবাই সবার বাড়িতে ফিরে যায়, নিজ দায়িত্বে। এই ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব পালন কালে কাউকে কোন একটি ট্রাফিক নিয়ম ভাঙতে দেয় নাই। সবাইকে তার ভুলের জন্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। যে মটর সাইকেল চালকের হেলমেট ছিল না, তাদের কেও জিজ্ঞেস করে সাধারণ ছাত্রছাত্রী। এদিকে তাদের আরো কয়েকজনের ট্রিপ বিভিন্ন সংখ্যা লগু মানুষের বাড়ি মন্দির গীর্জা রক্ষায় বীরদর্পে দায়িত্ব পালন করে চলেছে বলে নিশ্চিত করে।
পুলিশ প্রশাসনের ১১ দফার বিপরীতে ছাত্রছাত্রীদের দাবি দুর্নীতিগ্রস্ত কোন লোক সরকারি চাকরিতে থাকতে পারবে না। তাদের প্রায় সবাই দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর। তাদের সকল অবৈধ উপার্জিত সম্পত্তি সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তারা ছাড়াও অন্য সকল দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর অর্থ পাচার কারিদের এক এক করে ধরে সকল অবৈধ সম্পত্তি সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কোন সুযোগ সুবিধা নিতে দেবো না। ডালিয়া ছাড়া একে একে অন্যরা এই সব কথা জানান।
আপনার মতামত লিখুন :